ঢাকা, রবিবার, মে ২৬ ২০১৯,


শিরোনাম
যতদিন বেঁচে থাকি আপনাদের সেবা করে যাবো: ডা.এম,এ তাহের     বঙ্গবন্ধু পরিষদ জাপান শাখার কমিটি অনুমোদিত     কচুয়ায় শিলাস্থান একতা সমাজ সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র কোরআন শরীফ বিতরন     বঙ্গবন্ধু ছাত্র একতা পরিষদ:চাঁদপুর জেলা কমিটি গঠন-সভাপতি আরফাদ আহমেদ হিমেল,সম্পাদক এস,এম, সারোয়ার     কচুয়ায় বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম শামছুল হক প্রধানের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা     দারোগার প্রতি অভিমান, দারোগার প্রতি ভালোবাসার টান     নতুন আশার উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো: নুরুল ইসলাম মাষ্টার কে সাংবাদিক দের পক্ষ থেকে অভিনন্দন     নতুন আশার উপদেষ্টা সম্পাদক নির্বাচিত মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মাষ্টার     পহেলা বৈশাখের ইতিহাস :জুয়েল তরফদার     বঙ্গবন্ধু ছাত্র একতা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন    

সংসদে মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি’র প্রথম বক্তব্য

দিন বদলের সরকার | ০৩:৫১ মিঃ, নভেম্বর ৯, ২০১৭



মাননীয় স্পীকার, ধন্যবাদ আপনাকে, এ মহান সংসদে আমাকে বক্তব্য প্রদান করার সুযোগ দেয়ার জন্য। ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমি যাদের ভোটে, ভালোবাসায় এবং সমর্থনে আজকে এই সংসদে বসার অধিকার পেয়েছি, সেই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-মিরপুরের জনগণকে। ধন্যবাদ জানাচ্ছি, মহাজোটের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যাঁর নেতৃত্বে মহাজোটের একজন প্রার্থী হিসেবে আমি প্রতিদ্বন্দিতা করে বিজয় অর্জন করে এ সংসদে প্রবেশ করার অধিকার পেয়েছি। 

মাননীয় স্পীকার 
রাষ্ট্রপতির ভাষণ আমি দেখেছি, পড়েছি, কিন্তু ধন্যবাদ দিতে পারছি না। আমি ধন্যবাদ দিতে পারতাম, যদি এই ভাষণে নিকট-অতীতের ঘটনাবলীর বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ থাকতো। আমি ধন্যবাদ দিতে পারতাম, যদি চারদলের দুঃশাসনের চিত্র থাকতো। আমি ধন্যবাদ দিতে পারতাম, মহাজোটের এ অভূতপূর্ব বিজয় কেন হল, কীভাবে হল, তার বিশ্লেষণ থাকতো। আমি ধন্যবাদ দিতে পারতাম, যদি তাঁর ভাষণে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কেনো ক্ষেত্রবিশেষ রাজনীতিবিরোধী অভিযানের পরিণত হল, তার ব্যাখ্যা থাকতো। আমি ধন্যবাদ দিতে পারতাম, যদি তাঁর ভাষণে জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ নিরাপরাধ নেতা-কর্মীদের হয়রানি করার জন্য ভারসাম্য তত্ত্ব আমদানি করার কারণ ব্যাখ্যা থাকতো।

মাননীয় স্পীকার 
রাষ্ট্রপতিকে আমি ধন্যবাদ দিতে পারতাম, যদি তিনি সংবিধানের প্রতি অনুগত থেকে দেশ শাসন করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি চারদলীয় জোটের ক্রীড়ানক হিসেবে নীলনকশার নির্বাচন করার জন্য রাষ্ট্রপতির মর্যাদা ভুলে গিয়ে মিস্টার ইয়াজউদ্দিন-এ পরিণত হয়েছেন। এটা জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক ঘটনা। 

২৯ অক্টোবর, ২০০৬ মিস্টার প্রেসিডেন্ট যেদিন মিস্টার ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ দিলেন সেটা বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দুর্ঘটনা। একটি কালো অধ্যায়। গণতন্ত্রকে নিষ্কন্টক করতে এ কালো অধ্যায় সম্পর্কে এই সংসদে আলোকপাত করা উচিৎ। আমি মাননীয় স্পীকারের মাধ্যমে বলতে চাই যে, এই রাজনৈতিক কালো অধ্যায় সম্পর্কে সংসদ থেকে রাষ্ট্রপতিকে কৈফিয়ৎ তলব করা উচিৎ এবং তার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। ২ অক্টোবর যে ভুল হয়েছিল তা সংশোধন করতে আন্দোলন করতে হয়েছিল এবং তার জন্য শেখ হাসিনাকে দৃঢ়চেতা ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের রাস্তা উন্মুক্ত করেছিলাম এবং মিস্টার ইয়াজউদ্দিনকে বিদায় জানিয়েছিলাম। 

মাননীয় স্পীকার
বিএনপি এবং জামায়াতের বন্ধুরা রাষ্ট্রপতিকে impeach করার কথা বলছেন। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন্ন ২ অক্টোবর যে ভুল করেছেন তা সংশোধনের জন্য? নাকি ১/১১’র যে সরকার গঠন হলো, তার কোনটির জন্য কোন কারণে impeach করতে চান? সংসদে আসুন, আলোচনা করবেন। হ্যাঁ, আমরা আলোচনা করতে চাই। আমরা ২ অক্টোবরের মতো সংবিধান লক্সঘনের ঘটনা অথবা ১/১১’র মতো ঘটনার আর যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই জন্য আলোচনা করতে চাই। মনে রাখা দরকার ১/১১’র জনাব ফকরুদ্দিন, জনাব মইনুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তূপের উপর প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ সরকারের নির্বাচন করার দায়িত্ব ছিল। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, আইনের পুনঃসংস্কার এবং প্রশাসনকে নির্দলীয়করণের কাজটি করতে হয়েছিল। কিন্তু এই কাজের বাইরে যদি সরকার এবং সরকারের সংস্থাগুলো, রাষ্ট্রের অঙ্গগুলো বাড়াবাড়ি করে থাকে আইনের বাইরে পা দিয়ে থাকে, আইন ভঙ্গ করে থাকে তবে আমি মনে করি এই সংসদের তা এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। সেই ব্যাপারে আলোকপাত করা উচিত আলোচনায় আনা উচিৎ। সেই লক্ষ্যে আমি বলব   যে কোন বাড়াবাড়ির ঘটনা, যে কোন আইন বহির্ভূত কর্মকান্ড আমলে আনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা উচিৎ। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্রপতি থেকে সেনাপতি, বিচারপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী থেকে এম.পি অথবা সচিব সবাইকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা উচিৎ, জবাবদিহিতার ভিতরে রাখা উচিৎ। আমরা অতীতের ভুলগুলোকে অস্বীকার করতে পারি না, ভুলে যেতে পারি না। ৭১’র যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। সেই জন্য এই সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। 

১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড, ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যাকান্ড, কর্ণেল তাহের হত্যাকান্ড, জেনারেল জিয়ার শাসন কালে সেনা ছাউনিতে হাজার হাজার সৈনিক গুম, নিখোঁজ, হত্যা ও খুনের ঘটনা, এই সব কিছুই আমলে আনতে হবে। নিকট অতীতে ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার যে নির্মম পরিকল্পনা করা হয়েছিল সেটাও আমলে আনতে হবে। আমি মনে করি জাতির বিরুদ্ধে অপরাধ, জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ যারাই করেছে তারা যত বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি হন না কেন তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ বিচারের জন্য। আমাদের culture of impunity থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’ এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে চালু করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য সবকিছু আমলে আনতে হবে। এজন্য চারদলের দুঃশাসনের ঘটনাও আমাদের লিপিবদ্ধ করতে হবে। 

মাননীয় স্পীকার 
নির্বাচনী বিজয়কে দেশ দখলের ঘটনা, লুন্ঠনের লাইসেন্স মনে করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি প্রশাসনের স্থানে দল এবং পরিবারকে বসিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সরকারের ভিতরে সরকার তৈরি করেছিলেন। তিনি আক্রমণ করেছিলেন সংবিধান মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মকে। তিনি আক্রমণ করেছিলেন প্রশাসন, পীর ফকিরের মাজার, মুক্তিযুদ্ধের বুদ্ধিজীবীদের উপরে। তিনি আক্রমন করেছিলেন শহীদ মিনারে, আক্রমণ করেছিলেন মন্দিরে। এমন কোনো জায়গা ছিল না যেখানে চারদলীয় জোটের আক্রমণ পরিচালিত হয়নি। 

মাননীয় স্পীকার 
বেগম খালেদা জিয়ার সরকার জনগণের প্রতি সংবেদনশীল ছিলেন না। 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জর্জরিত জনগণের কান্না তিনি শুনতে পাননি বরং সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। 

জামায়াতকে নিয়ে যেদিন ক্ষমতায় গিয়েছিলেন সেদিন বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল এবং সেই দুর্ঘটনার আমরা সাক্ষী। পাঁচটি বছর ধরে দুর্নীতির বোমা, দ্রব্যমূল্যের বোমা, দুঃশাসনের বোমা, সাম্প্রদায়িক বোমা, জঙ্গিবাদের বোমা, পরিবারতন্ত্রের বোমা ফাটছিল। পাঁচটি বছর ধরে দেশের মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছে। 

মাননীয় স্পীকার 
মানুষ দেশে একটি পরিবর্তন চেয়েছিল। ২৮ ডিসেম্বর ছিল সেই পরিবর্তনের নির্বাচন। এই পরিবর্তনের ঘন্টা জননেত্রী শেখ হাসিনা কান পেতে শুনতে পেয়েছিলেন বলেই মহাজোটকে নিয়ে তিনি মানুষকে পরিবর্তনের  পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। এটা গণতন্ত্রের বিজয় এটা মানুষের বিজয়, এটা দেশের বিজয়। এই সংসদ আজ দাঁড়িয়ে আছে নবীন ভোটারের কাঁধের উপরে, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে গরীবের কাঁধের উপরে, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে নারীর কাঁধের উপরে যাদের চোখে দিন বদলের সপ্ন, যাদের চোখে ব্যবস্থা বদলের আকাক্সখা। আজকে এই সংসদ সফল হতে পারে যদি আমরা দুঃশাসন, দলবাজি, দুর্নীতি ক্ষমতাবাজি, বোমাবাজি, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ছেদ ঘটাতে পারি। এই সংসদ সফল হতে পারে যদি ক্ষমতার আগে মানুষ, মুনাফার আগে মানুষ রাজনীতির আগে মানুষকে স্থান দিতে পারে। এই সংসদ সফল হতে পারে যদি নীতি নির্ধারণের প্রতিটি সময় আমরা মানুষের স্বার্থকে সামনে নিয়ে এসে পরিকল্পনা করতে পারি। এগুলো করতে পারলেই এই সংসদ সফল হতে পারবে। 

স্পীকার: মাননীয় সদস্য, অনুগ্রহপূর্বক বক্তব্য সংক্ষেপ করবেন। 

জনাব হাসানুল হক ইনু: মাননীয় স্পীকার, আমি আপনার কাছে একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি। 

মাননীয় স্পীকার 
আমি মনে করি, আজকে দিন বদলের ছোঁয়া এই সংসদ থেকে শুরু হতে পারে। এই সংসদের মাননীয় সংসদ-সদস্যগণ যদি সাদাকে সাদা বলা কালোকে কালো বলার সৎ সাহস দেখাতে পারেন এবং সংবিধানের ৭০ ধারার সংশোধন করতে পারেন। সংস্কার শব্দ নিয়ে বহু তিক্ততা ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কিন্তু দিন বদলের জন্য রাজনৈতিক সংস্কার অপরিহার্য, এর কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং দিন বদলের জন্য সংস্কার লাগবেই। সংস্কার কোথা থেকে শুরু হবে সেটা আমাদের দেখতে হবে। তবে আমি মনে করি, রাজনৈতিক সংস্কার ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনীতিতে যদি দিন বদলের লক্ষ্যে পরিবর্তন না আনতে পারি, তাহলে আমরা মানুষের মুখে হাঁসি ফোটাতে পারবো না। সেইজন্য আমি বলতে চাই, শুধু বাজারের উপর আমাদের ভাগ্য ছাড়তে পারি না। শুধু রাষ্ট্র, শুধু বাজার এই ভ্রান্ত নীতির উপরে চলতে পারি না। রাষ্ট্র, বাজার ও সমাজের সমন্বয় সাধন করে সামাজিক বাজার অর্থনীতি ‘অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের’ মধ্য দিয়ে monopoly power, money power, discretionary power ধ্বংস করে দিতে হবে। যাতে দারিদ্র্য উৎপাদন আর দারিদ্র্য পুনঃ উৎপাদনের যে অন্যায্য কাঠামো এখনো বর্তমান, সেই কাঠামো বদল করার কাজে হাত দিতে পারি। 

মাননীয় স্পীকার 
আমাদের মনে রাখতে হবে, দুর্নীতিগ্রস্থ জনগণের মাঝে  স্বাধীনতার পতাকা বেশি দিন টিকে থাকে না। খালি পেটে গণতন্ত্র হয় না। যেখানে দুঃশাসন বিরাজ করে বা আইনের শাসন থাকে না, সেখানে সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়া যায় না। সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়তে হলে সুশাসন দরকার, আইনের শাসন দরকার। আর মনে রাখা দরকার, যারা চাকা ঘুরাচ্ছে আমাদের অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য, সেই প্রবাসী বাঙ্গালি, সেই ২০ লক্ষ নারী শ্রমিক বিশেষ করে সেই কৃষক ক্ষুদে শিল্প উদ্যোক্তারা এদের যদি ভাগ্য বদল করতে না পারি  এদের কথা যদি সংসদ না শুনে, তাহলে আমরা কখনোই দিন বদলের ছোঁয়ায় বাংলাদেশকে উদ্ভাসিত করতে পারবো না। মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেছেন ‘Wars against Nations are faught to change maps. Wars against Poverty are faught to map change’. জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয় মানচিত্র বদল করার জন্য। কিন্তু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয় পরিবর্তনের মানচিত্র তৈরির জন্য। সুতরাং আজকে এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই যে, খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। যার জন্য সমšি^ত কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সংগে বেকারত্ব ও হতাশার কারাগার থেকে আমার যুব সমাজকে বের করে আনার জন্য কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন করতে হবে। 

আর দ্বার উন্মোচন করতে হলে সরকারের সেবা খাতকে প্রসারিত করতে হবে। বেসরকারি খাতকে আরও চাঙ্গা করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার জন্য জায়গাগুলো তৈরি করে দিতে হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করে দিতে হবে। আর শিল্প উদ্যাক্তাদের যদি পৃষ্ঠপোষকতা না দিতে পারি, কর্মসংস্থান হবে না। সেজন্য আমার বিশাল পোশাক শিল্প আর তার সঙ্গে অগ্র-পশ্চাৎ শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। 


স্পীকার: এবার শেষ করবেন মাননীয় সদস্য। 

জনাব হাসানুল হক ইনু: বস্ত্র শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। বন্ধ কারখানা খুলতে হবে। চালু কারখানা চালু রাখতে হবে। চালু কারখানা যাতে বন্ধ না হয়, সেই জন্য বস্ত্র শিল্পের ৩০ হাজার কোটির উপরে সূতা গুদামে জট পাকাচ্ছে, আর বাংলার বাজার ভারতের সূতায় সয়লাব হয়ে যাবে, তা হতে পারে না। সুতরাং আমি মনে করি এ ব্যাপারে আমাদের সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমি সব শেষে বলব, বহু কথা বলার ছিল, কিন্তু সময় সংক্ষেপ ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ বলবো। 


মাননীয় স্পীকার 
আমি সবশেষে বলবো, আমরা বিজয় অর্জন করতে পারি, কিন্তু বিজয় আমরা ধরে রাখতে পারি না। এবার আমাদের বিজয় ধরে রাখতে হবে। আর সে জন্য আন্দেলনের সময়, রংধনুর সাত রং নিয়ে, ঘাস ফুল থেকে গোলাপ ফুল নিয়ে, নানা ফুলের ঐক্যের মালা যে আমরা গেঁথেছিলাম, যে ঐক্যের মালা গলায় দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা মহাজোটের সরকার গঠন করেছেন। সেটা সরকারকে ধরে রাখতে হবে। টিকিয়ে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে- এখনো গণতন্ত্রের শত্রæরা ধ্বংস হয়ে যায়নি। তারা নির্বাচনে কেবল পরাজিত হয়েছে। সুতরাং বিজয়কে ধরে রাখতে হলে, ঐক্য যদি বিজয়ের মন্ত্র হয়ে থাকে, ঐক্যই বিজয়কে ধরে রাখার মন্ত্র। ঐক্যই বিজয়ের স্বাদ এবং সুফল ঘরে ঘরে পৌছাঁনোর মন্ত্র। 


সবশেষে মাননীয় স্পীকার, বলবো কথাশিল্পী লিও টলস্টয় বলেছিলেন, ‘Everyone thinks of changing the world, but no one thinks of changing himself’. এবার আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের মহাজোটের নেতা-কর্মীরা, সংসদ-সদস্যরা এবং সরকার তারা নিশ্চয়ই গ্যারান্টি দিবেন, এবার আমরা নিজেরা বদলাবো, পরিবর্তন করবো এবং দুনিয়াকে পরিবর্তন করবো। এটা পরিবর্তনের সংসদ হবে। দিন বদলের নেত্রী ইনশাআল্লাহ দিন বদলের সরকারকে সাথে নিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। 


মাননীয় স্পীকার, আপনাকে ধন্যবাদ। 


স্পীকার: ধন্যবাদ, মাননীয় সদস্য আপনার সুন্দর বক্তব্যের জন্য।

সূত্র: ঘুরে দাঁড়ানোর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চিন্তা
জাতীয় সংসদে হাসানুল হক ইনুর ভাষণ।





Designed & Developed by TechSolutions BD